Monday, March 7, 2016

Week End Tour to Bakkhali


বকখালি, ধর্মতলা থেকে ১২৫ কিলোমিটার। শিয়ালদা থেকে ট্রেন নামখানা, তারপর নদী পার হয়ে গাড়ি ধরে ২৫ কিলোমিটার বকখালি।  ধর্মতলা থেকে বকখালি বাস আছে। ভোরবেলা ছাড়ে এই বাস। নামখান যাওয়ার বাস সারাদিন পাওয়াযায়।
নাম্খানায় নদী পার হবার এখনো কোনো ব্রিজ তৈরী হয়নি, তাই বাস বা গাড়ি সবই ভেসেলে করে পার হয়। দেখার মত দৃশ্য। নদী পেরিয়ে এগিয়ে চললো বাস বকখালির দিকে।তিরিশ মিনিট লাগে নদী পেরিয়ে বকখালি পৌঁছতে। হোটেল প্রচুর তাই আগে থেকে হোটেল বুক করার কোনো প্রয়োজন নেই এখানে। সব রকম দামের হোটেল এখানে পাওয়াযায়, মনের মত একটা খুঁজে নিতে হবে এবার। ৩৫০ টাকা থেকে নিয়ে ৩৫০০ টাকা পর্যন্ত সব রকম হোটেল এখানে রয়েছে।
বীচের কাছাকাছি একটা হোটেল খুঁজে নিয়ে বেরিয়ে পরলাম এবার বিচ দেখতে। ছোটবেলায় একবার এসেছিলাম এখানে, অনেক কিছুই পাল্টে গেছে, বকখালি বীচ নতুন করে সেজে উঠেছে। চারপাশটা অনেক পরিস্কার এখন, বিচে যাওয়ার মুখেই অনেক দোকান বসেছে। আগের থেকে লোকের ভিড় ও বেড়েছে এখানে।
এককাপ চা হাতে নিয়ে এগিয়ে গেলাম সমুদ্রের দিকে।
এটা বঙ্গোপসাগর। বীচের ধারে অনেক বসার সিট রয়েছে, বিকেল বেলায় চাএর কাপ হাতে এখানে বসে সমুদ্র উপভোগ করতে খুব ভালো লাগবে। বালির উপর দিয়ে হাটতে হাটতে এগিয়ে গেলাম, ঠান্ডা জলের ঢেউ এসে লাগছে পায়ে। অনেক লোকজন মজা করছে জলের ভিতর। ক্যামেরা হাতে এর থেকে বেশী জলে নামটা ঠিক হবেনা, তাই ধার দিয়েই হাটতে থাকলাম।
        দুপুরের খাওয়া দাওয়া সেরে একটু রেস্ট নিয়ে সূর্যাস্ত দেখতে আসতে হবে। ফিরে এলাম হোটেলে। ফ্রেশ হয়ে খেতে এলাম খাবার হোটেলে। বাইরে খাবার হোটেল গুলোতে ভালো খাবার পাওয়া যায়, অনেক সস্তাও। 
      বিকেল চারটে সমুদ্রের ধরে আমি, এখনো অনেকে জলে। ধীরে ধীরে সূর্য নেমে যাচ্ছে, সূর্যাস্তের কিছু ফটো তুললাম, লোকজন সব জল থেকে উঠে এল। পাড়ে এখনো অনেক লোকের ভীড়। বীচের উপর কিছু ঠেলা গাড়িতে কিছু বিক্রী হচ্ছে, এগিয়ে গেলাম দেখতে, চার পাঁচটা ঠেলা গাড়ী বিক্রী করছে মাছ। সামুদ্রিক মাছ, যেটা পছন্দ করবেন সেটাই ফ্রাই করে দেবে। অল্প দাম, লোভ সামলাতে পারলাম না।  সামুদ্রিক কাকরাও আছে, আরো অনেক মাছের নাম জানলাম। বিকেল আর সন্ধেটা ভালই কাটল। বীচের আগে আরো অনেক দোকান আছে যেখানে আপনি সন্ধা কাটাতে পারেন। 
বকখালি বীচের ডান দিকে আরো একটা বিচ আছে যার নাম ফ্রেজেরগঞ্জ, কাল যাব দেখতে। বকখালি মত্স বন্দর থেকে যাওয়া যায় জম্মু দ্বীপ। আগে জানলে প্রথম দিনই ঘুরে নিতাম জম্মু দ্বীপ। শুনেছি এটা একটা ভার্জিন বীচ। খুব ভালো লাগবে যদি ঘুরে আসেন, ভুটভুটি করে যেতে হয় আর খুব মজাও হয়। 
      সকাল বেলা সূর্যোদয় দেখলাম বকখালিতে আর ব্রেকফাস্ট করে এগিয়ে গেলাম ফ্রেজারগঞ্জ এর দিকে। রাস্তা দিয়ে যেতে পারেন অথবা বিচ ধরে ডানদিকে হেটে গেলেও পৌছে যাবেন। এছাড়াও আছে হেনরী ইল্যান্ড আর কুমীর প্রকল্প। দুদিনের এই অল্প সময়ে এগুলো আর দেখা হলনা। তবে সমুদ্রের ফ্রেস হাওয়ায় মন শরীর সব তাজা হয়ে গেল। ১২ টা ৩০ মিনিটে ভূতল ছাড়ে বকখালি থেকে, এতে আপনি ধর্মতলা চলে আসতে পারবেন চার ঘন্টায়। খাওয়া দাওয়া সেরে ব্যাগ গুছিয়ে টিকেট কেটে বসে পড়লাম বাসেতে। শনি রবি ঘোরা শেষ। 
এত কাছাকাছি এত সুন্দর জায়গা যা দু দিনেই ঘোরা যায়; পারফেক্ট উইকেন্ড টুর। গাড়ী নিয়ে আসলে এই ঘোরাটা আরো ভালো হয়। যা যা আমার বাদ গেল সবই দেখে যাওয়া যেতো। কাল সোমবার, আবার কাজ, তাহলে এই পর্যন্তই থাক। ভালো থাকবেন। 









Sunday, February 28, 2016

Short tour to Darjeeling


বাংলা লেখা হঠাৎ এত সহজ হয়ে উঠবে তা যদি আগে জানতাম অনেক দিন আগেই শুরুকরে দিতাম ব্লগ লেখা। ধন্যবাদ google কে।
বাঙালি মানেই ঘুরতে যাওয়ার অপেক্ষা। সেই বিস্তর আলোচনা, কোথায়, কোথায়, এবার কোথায় হবে যাওয়া। একটা না একটা সময় তাকে বেরিয়ে পড়তেই হয়, যাকে বাঙালি কয়। হাতে ক্যামেরা, বাগে ডায়রী, পকেটে টাকা আর তো বাকি থাকে শুধু টিকিট। কি খাব আর কোথায় থাকব সে চিনতা নয় পৌছে গিয়ে হবে .....
সবচেয়ে সহজ যে পথ, সেই পথ ধরেই বাঙালির সবচেয়ে পছন্দের  জায়গা হল দাজিলিঙ।
যাত্রা শুরু sealdah স্টেশন থেকে, ট্রেন দার্জিলিং মেল , রাত দশটা পাঁচ ট্রেন ছাড়ল শিলিগুড়ির উদ্দেশ্যে।
এই ট্রেন সকাল আটটা তিরিশ মিনিটে পৌঁছায় শিলিগুড়ি। এইখান থেকেই শুরু বেড়ানোর। গাড়ী ভাড়া করে উঠে পরলাম তাতে। শেয়ার  জীপ্ ও পাওয়া যায় এখানে, তাতে খরচ একটু কম হয়...........
ব্রেকফাস্ট পাহাড়ে উঠতে উঠতে হবে। মনে রাখতে হবে অনেকের বমির ধাত্ আছে, সে ক্ষেত্রে প্যান ডি অথবা অন্য ওষুধ ট্রেন থেকে নেমেই খেয়ে নিতে হবে। দু ঘন্টা তিরিশ  মিনিটের মধ্যেই পৌছে যাব দার্জিলিং। তিস্তা নদীর পাশদিয়ে রাস্তা বেস খানিকটা, যাদের রিভার ফিশিং এর শক আছে নেমে পড়তে পারেন একবার চেষ্টা করতে। যত উপরে যাচ্ছি তত ঠান্ডা হয়ে উঠছে চারিদিক। অদ্ভুত সুন্দর লাগছে এই আবহাওয়া।

মোমো খেলাম পাহাড়ের উপরের একটা দোকান থেকে। সহজ সরল পরিষেবা, সমতলের সঙ্গে মিল খুব কম। আরো ভাললাগছে। হঠাত দেখতে পাওয়া গেল toy-train আমাদের পাশে পাশে আমাদেরই সঙ্গে যাচ্ছে। ছোটবেলার toy-train চড়ার ইছা আরো একবার মনকে নাড়া দিল। ঘড়িতে বারোটা পনেরো পৌছে গেলাম দার্জিলিং। ম্যালের বেশ খানিকটা আগেই নামিয়ে দিল। এবার হোটেল খোঁজার পালা। হোটেল প্রচুর, বিভিন্ন দামে, বিভিন্ন জায়গায়। আমার ইছা ছিল ম্যালের কাছেই থাকব।ম্যালের দিকেই হেটে গেলাম, কিছুক্ষণ খোঁজার পর একটা বাঙালি বৌদির হোটেল পেলাম। বৌদি শিলিগুড়ির লোক, এখানে হোটেল করেছেন অনেক বছর হল। জানালা থেকে দেখা যাবে পাহাড়ের সুন্দর দৃশ্য, এমনই একটা হোটেল খুজছিলাম। আর সময় নষ্ট না করে স্নান করে খাওয়ার পর্বটা চুকিয়ে ফেললাম।
এবার একটু রেস্ট নেবার পালা। বিকেলে ম্যালে বসে চা খেতে খেতে ঠিক করব কোথায় কীভাবে ঘোরা যাবে।


বিকেল চারটের সময় ম্যালের উপর চায়ের গ্লাস হাতে সুন্দর লাগছে এই দার্জিলিং। প্রায় একটা মাঠের মতো, রেলিং দিয়ে ঘেরা, চারপাশে বসার জায়গা; এখান থেকে যেখানেই যাবেন নীচের দিকে যেতে হবে, এটাই ম্যাল। ম্যালের বাম দিক থেকে রাস্তা শুরু হয়েছে যেটা পাহাড় ঘুরে আবার ম্যালে এসে পরেছে।  এই পাহাড়ের উপরে আছে একটা মন্দির। ম্যালের চারদিকে অনেক দোকান নানা ধরনের। ম্যালের বাম দিকে নীচেই একটা মার্কেট আছে। বলতে পারেন হাট বসেছে। সন্ধে হয়ে আসছে আর মানুষের ভিড় ও বাড়ছে। সন্ধাবেলায় মার্কেটে ঘুরেবেড়ানো ছাড়া আর কোনো কাজ নেই। বিগবাজার আছে কলকাতার মতো। inox এ সিনেমাও দেখাযায় এখানে। বেশ কিছু বাঙালি খাবার হোটেল হয়েছে, রাতের খাবারটা নিয়েনিলাম। এখানে বসে খাবার ব্যবস্তাও আছে। কাল যাব টাইগারহিল দেখতে। সকাল চারটের সময় উঠে চলে আসতে হবে গাড়ীর স্টান্ডে। টাইগারহিলের সাথে আরো অনেক কিছু দেখাবে। ফামেলি থাকলে আলাদা গাড়ী ভাড়া করে নেওয়া ভালো। সেখেত্রে ড্রাইভার গাড়ী নিয়ে হোটেলেই চলে আসে। রাতে শোবার আগে Mobile-এ অ্যালার্ম আর কামেরার ব্যাটারী চার্জ দেওয়ার কথা ভুলবেন না।

টাইগারহিল, শুনেছি এটা দেখা ভাগ্যের বাপার, এবারেও তার বাতিক্রম হলো না। চারিদিক মেঘে ঢাকা, সূর্যদয় দেখা হবেনা কাররই। বিস্সাদ মনে সবাই চা খাচ্ছিল, হঠাত মেঘের ফাঁকে সূর্যের আলো,  চিত্কার করে উঠলো সবাই, অপূর্ব দৃশ্য- কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে আবার ঢাকা পরে গেল মেঘের আড়ালে। ফটো তোলার মতো সময় কেউই পায়নি। ফেরার পথে বাতাসিয়া লুপ। ইটা একটা ভিউ পয়েন্ট যা সুন্দর ফুলগাছ দিয়ে সাজানো। এর ভিতর দিয়ে টয় ট্রেনের লাইন পাতা আছে ।
জয় রাইড নামে একটা রাইড চালু হয়েছে, টয় ট্রেনে চড়ে আপনি দেখতে পারবেন দার্জিলিং কে আরো কাছ থেকে।
এবারে যাব রক গার্ডেনে ঝর্না দেখতে। তারপর টি গার্ডেন। ফ্যামেলির সাথে ভালো লাগবে এই রক গার্ডেন। বেশ খানিকটা সময় কেটে যাবে এখানে ফটো তুলতে তুলতে। আজকের মত এখানেই শেষ, চা বাগান দেখে ফিরে যাব হোটেলে। সন্ধ্যে বেলা মার্কেটে ঘুরে কাটিয়ে দিলাম আর একটা দিন। 

ভোর বেলা ঘুম থেকে উঠে ম্যালের চারদিকে মর্নিং ওয়াক এই দিয়েই শুরু হল তৃতীয় দিন। তাজা অক্সিজেন মন শরীর যেন আরো সুস্ত হয়ে উঠলো। ম্যাল থেকে গাড়ির স্টান্ডের দিকে যেতে মাঝপথেই পড়ে খুব ভালো একটা খাবার দোকান, বেশ বড় একটা ধোসা দিলো, হয়েগেল ব্রেকফাস্ট। হাঁটতে থাকলাম ম্যাল থেকে নিচে নেমে আরো উপরে। সুন্দর সুন্দর বাড়ি আর তাদের বাগান। আচার্য জগদীস চন্দ্র বসু ইনস্টিটিউড অতিক্রম করে পৌঁছে গেলাম প্যাগোডা দেখতে। শান্তির জায়গা এই প্যাগোডা। দুপুরের পর থেকে সময়টা আজ ম্যালেতেই কাটাবো। ম্যালে বসে থাকার জন্যই যেন বারবার দার্জিলিংএ আসতে ইচ্ছা করে। বোঝাই যায়না সময় কীভাবে কেটে যায়। দার্জিলিং এ আসলে রোজ সকালে মর্নিং ওয়াকে বেরোবেন। যাদের সুগার আছে তাদের জন্য সুখবর, দার্জিলিং এর রাস্তায় রোজ দুএকবার উপর নিচ করলে সুগার বলে কিছু থাকবে না।

খুব কম সময় নিয়ে এসেছিলাম, কাল ফেরার ট্রেন। দুপুরের খাবার খেয়ে উঠে পড়ব গাড়ীতে। রাত আটটার সময় ট্রেন। এক সপ্তাহে এর থেকে ভালো ঘোরার জায়গা আর বোধহয় নেই।শিলিগুড়ি নেমে এসেই বুঝতে পারলাম সেই তাজা অক্সিজেন আর নেই। যাইহোক রওনা দিলাম কলকাতার উদ্দেশ্যে। সপ্তাহটা ভালই কাটল।


Abhirup Basu.